রানি এলিজাবেথ মু্গ্ধ হয়েছিলেন বিশ্ববিক্ষাত হাজারি গুড়ের স্বাদ ও সুগন্ধে!

হাজারি গুড়ের স্বাদে মন মজেছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধিপতি রানি এলিজাবেথের। শত বছরের জনশ্রুতি মতে, মানিকগঞ্জ, বাংলাদেশ অঞ্চলের গুড়ের ঘ্রাণ ও স্বাদে মুগ্ধ হয়েছিলেন রানি। গুণমুগ্ধতা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি নিজেই ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এ গুড়ের নাম। সেসময় বেশ কয়েকটি হাজারি পরিবার যুক্ত ছিল এই গুড় তৈরির কাজে। সে কারণেই এর নাম হয় হাজারি গুড়। আবার অনেকের মতে হাজারী প্রামানিক একজন ব্যক্তির নাম থেকে হাজারি গুড়ের উতপত্তি। সে যাই হোক, মিষ্টি গন্ধ ও মনোহর স্বাদের এ হাজারি গুড় নিয়ে এলাকায় প্রচলিত আছে অনেক রকমের উপকথা।

এর দাম প্রচলিত পাটালি গুড়ের তুলনায় পাঁচ থেকে দশগুণ। কম করে হলেও দেড়শ’ বছরের বেশি সময় ধরে দেশজুড়ে সমানভাবে এর সুনাম রয়েছে। এমনকি সরকারিভাবে এই গুড়ের সুনামকে স্বীকৃতি দিতে ‘ঝিটকার হাজারি গুড়’ নাম দিয়েই এ জেলার ব্রান্ডিং করা হয়েছে। এ অঞ্চলের প্রায় শ’খানেক পরিবার হাজারি গুড়ের ওপর  নির্ভর করে তাদের জীবিকা চালিয়ে আসছে।

এ গুড়ের উৎস খেজুরের রস। গাছির রস নামানো থেকে শুরু করে গুড় তৈরির মধ্যে রয়েছে আদি এক প্রক্রিয়া। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুর পরিবর্তন হলেও হাজারি গুড় তৈরির এই প্রক্রিয়ার কোনও পরিবর্তন নেই জানালেন গাছিরা।

বেশি শীত অর্থাৎ ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এই গুড় উৎপাদনের উপযুক্ত সময়। আগের দিন বিকালে গাছ কেটে হাঁড়ি বেঁধে দেওয়া হয়। পরদিন ভোরে গাছ থেকে রস নামিয়ে ছেঁকে ময়লা পরিষ্কার করে মাটির তৈরি জালা অথবা টিনের তৈরি তাফালে (পাত্র) বাইন (চুলা) জ্বালিয়ে গুড় তৈরি করতে হয়। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় কাশের নাড়া। এ গুড় দেখতে যেমন সুন্দর,খেতেও তেমনি সুস্বাদু। মিষ্টি ও টলটলে রস ছাড়া এ গুড় হয় না।’

ভোরের আজানের ধ্বনি কানে ভেসে আসার আগেই ঘুম ভেঙে যায় সেখানকার গাছি এবং তাদের গৃহিণীদের। গাছিরা চলে যায় খেজুর গাছ থেকে হাড়ি ভর্তি রস আনতে। আর গৃহিণীরা রস জাল করার জন্য প্রস্ততি নিতে চুলার পাড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। জনশ্রুতি রয়েছে, গাছি ও গৃহিণীদের এই গুড় তৈরি ও বিক্রির ব্যস্ততা অন্তত দেড়শ’ বছরের।

ইংল্যান্ডের রাণী এলিজাবেথকে এই গুড় উপহার দেওয়া হয়েছিল। তিনি এই গুড় খেয়ে অভিভূত হয়েছিলেন। এখন ভালো মানের এক কেজি হাজারি গুড় এক হাজার থেকে বারোশ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। হাজারি গুড়ের চাহিদা এতোই বেশি যে, এ গুড় তৈরি করার কয়েক মাস আগেই অর্ডার থাকে। দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ গাড়ি নিয়ে আসেন গুড় নিতে।

হাজারি ব্রান্ডের সিলটি নাকি রাণী এলিজাবেথই প্রদান করেছিলেন। জানুয়ারী থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত খেজুরের রস কাটার উপযুক্ত সময়। প্রতিটি গুড়ের ওজন ২৫০ গ্রাম এবং দেখতে হলদে সাদা হাজারি ‍সিলযুক্ত। কমপক্ষে ১ সপ্তাহ আগে বুকিং দিযে এই গুড় কিনতে হয়।

হরিরামপুর উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রাম থেকে আমি এই গুর কিনেছি ১২০০ টাকা কেজি দামে, কিন্ত ঢাকার ‍সুপার মারকেট গুলুতে ৩০০০ টাকা দামে বিক্রয় হয় বলে শুনেছি। আরব দেশে উন্নত মানের খেজুর হলেও তারা জানেনা যে, খেজুরের রস থেকে এত উন্নত মানের গুড় তৈরী হয়।

error: Content is protected !!